ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি

আমরা এই ব্লগে ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করে সে সম্পর্কে জানাবো । ড্রাগন ফল পুষ্টিতে ভরপুর এক সুস্বাদু ফল। ড্রাগন ফল পিটায়া নামেও পরিচিত । এটি ক্যাকটাস পরিবারের অন্তর্গত এবং দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। তার গোলাপী বা হলুদ রঙের খোসার নিচে থাকে সাদা বা লাল মাংস। যাতে ছোট ছোট কালো বীজ থাকে।
বাংলাদেশে ড্রাগন ফল চাষ দিন দিন বাড়ছে । এ ড্রাগন ফল স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যাই। আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আপনিও খুব সহজে নিজ বাড়িতে ড্রাগন চাষ করে পারেন । তাই এটা চাষের সম্পূর্ণ নিয়ম নিচে দেওয়া হল ।

পেজ সুচিপত্রঃ ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি

ড্রাগন ফল উৎপাদনে বিখ্যাত এলাকা

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি বাংলাদেশে অনেক দিন ধরে সফলতা নিয়ে। এসেছে কৃষি খাতে বর্তমানে ড্রাগন ফল লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিত। এটি পিটায়া নামেও পরিচিত এবং ক্যাকটাস পরিবারের অন্তর্গত। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই ফলের উৎপাদন বাংলাদেশে ক্রমাগত বাড়ছে। ড্রাগন ফলের চাষে বিশেষ এলাকা এখন বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত এলাকা ড্রাগন ফল উৎপাদনে সেরা চট্টগ্রাম জেলা। বিশেষ করে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান। এই অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। চট্টগ্রামে ড্রাগন ফলের চাষ দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এটি কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার কিছু এলাকাতেও ড্রাগন ফলের চাষ হয়। যেখানে মাটি এবং পরিবেশ অত্যন্ত উপযুক্ত।রাজশাহী জেলার কয়েকটি এলাকাও ড্রাগন ফল উৎপাদনে পরিচিত। এই অঞ্চলের মাটি এবং জলবায়ু ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী। খুলনা এবং বরিশাল জেলার কিছু এলাকাতেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এসব অঞ্চলে ড্রাগন ফলের চাষের সাথে সাথে কৃষকরা এর বাণিজ্যিক মূল্যও উপলব্ধি করছেন। ড্রাগন ফলের চাষ বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এর পুষ্টিগুণ এবং উচ্চ বাজার মূল্য কৃষকদের উৎসাহিত করছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ড্রাগন ফলের বীজ সংগ্রহ ও প্রস্তুতি

ড্রাগনে বীজ থেকে চারা তৈরি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বীজ সংগ্রহ ও প্রস্তুতি।ড্রাগন ফলের বীজ সংগ্রহের সময় সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে ফলন বাড়ানো সম্ভব হয়। বীজের গুণগত মান বজায় থাকে।ড্রাগন ফলের বীজ সংগ্রহের জন্য প্রথমে পরিপক্ক ফল নির্বাচন করতে হয়। পরিপক্ক ফলের শাঁস উজ্জ্বল রঙ ধারণ করে। ফল কেটে এর শাঁস থেকে বীজ আলাদা করা হয়। বীজগুলো সাধারণত ছোট গোলাকার সাদা বা কালো রঙের হতে পারে। ফল কেটে বীজ সংগ্রহের পর বীজগুলোকে ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। 

এরপর একটি পরিষ্কার কাপড়ে বা কাগজে বীজগুলো রেখে কিছু সময়ের জন্য শুকাতে দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি থাকলে বীজের গুণমান নষ্ট করে। বীজগুলো শুকানোর পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বজায় থাকে।বীজ প্রস্তুতির পর সেগুলো পাত্রে অথবা মাটির মধ্যে চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত, ড্রাগন ফলের বীজগুলোকে পাত্রে চারা উৎপাদনের জন্য বসানো হয়। পরে সেগুলো জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। এই প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে করা হয় তাহলে ভালো ফলন পাওয়া যায় ।

ড্রাগন ফলের বীজ শুকানো

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হল বীজ শুকানো । বীজের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং সেগুলোর অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ড্রাগন ফলের বীজ সঠিকভাবে শুকানো না হলে পচে যেতে পারে।প্রথমে ড্রাগন ফলের বীজ সংগ্রহ করতে হয়। ফলটি পরিপক্ক হলে তা কেটে এর শাঁস থেকে বীজ আলাদা করা হয়। বীজগুলো সাধারণত সাদা বা কালো রঙের ছোট ও গোলাকার হয়ে থাকে।

এগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যাতে ফলের শাঁস বা অন্য কোনো অবাঞ্ছিত উপাদান থেকে মুক্ত থাকে।বীজগুলোকে শুকানোর জন্য একটি পরিষ্কার কাপড় বা কাগজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বীজগুলোকে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে সেগুলোকে রক্ষা করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত তাপ বীজের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে। বীজগুলো আর্দ্রতা অনুযায়ী সাধারণত ১-২ দিন শুকানো উচিত। শুকানো বীজগুলো যাতে ভেজা না থাকে এবং সহজে ভেঙে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ভালো ফলন পেতে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বজায় রাখেতে হবে। এরপর সেগুলো একটি সিল করা পাত্রে বা ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে।

চারা রোপণের জন্য পাত্র নির্বাচন

ড্রাগনে বীজ থেকে চারা তৈরি জন্য পাত্র নির্বাচনের ভূমিকা অপরসিম।সঠিক পাত্রে চারা রোপণ করলে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় । মাটির সাথে তাড়াতাড়ি ভালভাবে সংযুক্ত হতে পারে। ড্রাগন ফলের চারা রোপণের জন্য পাত্রের আকার, উপকরণ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর জন্য যা করে হবে আমাদের প্রথমে পাত্রের আকার নির্বাচন করতে হবে। ড্রাগন চারা শুরুতে ছোট হওয়ায় বা পাত্রটি খুব বড় না হওয়াই ভালো।পাত্রটি এমন হওয়া উচিত যাতে চারা সঠিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণত ৮-১০ ইঞ্চি গভীরতা এবং প্রশস্ত পাত্র ব্যবহার করা হয়। এটি ড্রাগন চারা’র শিকড় বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত স্থান প্রদান করে।প্লাস্টিক মাটির পাত্র বা ট্রে যেকোনো ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মাটির পাত্রের সুবিধা হল এটি আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।প্লাস্টিকের পাত্রের ক্ষেত্রে হালকা এবং টেকসই হতে পারে।অতিরিক্ত আর্দ্রতা শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে তাই পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চারা রোপণের পর পাত্রটি এমন স্থানে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস প্রবাহিত হয়।সঠিক পাত্রে রোপণ করলে ড্রাগন ফলের চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে তা জমিতে রোপণ করা যায়।

পানি , আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা

ড্রাগন  এর ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করতে পানি, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পরিমাণে পানি, আর্দ্রতা এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা নিশ্চিত করা গেলে ড্রাগন ফলের বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয় এবং স্বাস্থ্যবান চারা তৈরি হয়।ড্রাগন ফলের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। বীজ রোপণের পর পাত্রে মাটিকে সব সময় আর্দ্র রাখার জন্য মৃদু পরিমাণে পানি দেওয়া উচিত।আর্দ্রতা বেশি হলে মাটি খুব ভিজে থাকতে পারে। যা বীজের জন্য ক্ষতিকর।

অন্যদিকে, আর্দ্রতা কম হলে বীজ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। সাধারণত, ৫০-৭০% আর্দ্রতা বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য আদর্শ। পাত্রের ওপর প্লাস্টিক বা কাঁচের ঢাকনা দিয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়। ড্রাগন ফলের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা প্রায় ২৫-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাপমাত্রা অত্যধিক কম বা বেশি হলে বীজের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। শীতল পরিবেশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা প্রয়োজন হতে পারে।পানি, আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ড্রাগন ফলের বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হবে এবং শক্তিশালী চারা তৈরি হবে।

সঠিক যত্নে ড্রাগন বীজ রোপণ

ড্রাগন এর বীজ থেকে চারা তৈরি করতে সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এটি একটি বিশেষ ধরনের ফসল এবং তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত প্রয়োজন। সঠিক যত্নে ড্রাগন ফলের গাছ ভালভাবে বৃদ্ধি পায় এবং উচ্চমানের ফলন পাওয়া যায়। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ যত্নের দিক তুলে ধরা হলো।

  • ড্রাগন ফলের জন্য সুষম ও ভাল জল নিষ্কাশনক্ষম মাটি নির্বাচন করা প্রয়োজন। মাটি যাতে খুব জলাধারিত না থাকে নিশ্চিত করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা শিকড়ের পচন ঘটাতে পারে। বালুকামিশ্রিত বা দো-আঁশ মাটি এই গাছের জন্য উপযুক্ত। মাটির pH মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।
  • ড্রাগন ফল গাছের জন্য গরম ও উষ্ণ আবহাওয়া উপযুক্ত। আদর্শ তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তবে শীতল পরিবেশে গাছের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। ড্রাগন ফলের গাছ প্রচুর রোদ পছন্দ করে। তবে সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো থেকে গাছকে কিছুটা রক্ষা করতে হবে। সুতরাং গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো ও হালকা ছায়া নিশ্চিত করা উচিত।
  • ড্রাগন গাছের জন্য পানি প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ তবে অতিরিক্ত পানি থেকে গাছকে রক্ষা করতে হবে। সারা বছর ধরে মাঝারি পরিমাণে পানি দেওয়া উচিত। শীতকালে পানি কম দিতে হবে। মাটির আর্দ্রতা ভালো রাখার জন্য সেচ দেওয়া প্রয়োজন।
  • ড্রাগন গাছের উন্নত বিকাশের জন্য সুষম সারের প্রয়োজন। বিশেষ করে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ সার ব্যবহার করা উচিত। প্রতি ৪-৬ মাস অন্তর সার প্রদান করলে গাছের বৃদ্ধি ভাল হয়।
  • ড্রাগন গাছের শাখা প্রশিক্ষিত করতে হবে, যাতে এটি সুস্থভাবে বৃদ্ধি পায়। এর জন্য মুষ্টি ও ডাল কাটার মাধ্যমে গাছকে সঠিক আকারে রাখা প্রয়োজন।সঠিক যত্নে ড্রাগন ফলের গাছ শক্তিশালী হয় এবং ভাল ফলন দেয়।

সূর্যের আলো এবং পরিবেশ তৈরি করা

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করার জন্য সূর্যের আলো এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিবেশের মধ্যে চারা তৈরি হলে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায় । যা পরবর্তীতে শক্তিশালী হয় এবং জমিতে রোপণের জন্য প্রস্তুত থাকে। এখানে সূর্যের আলো এবং পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হলো। ড্রাগন এর বীজ থেকে চারা তৈরি হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সূর্য থেকে পাওয়া আলো গাছের ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়া চালু রাখতে সাহায্য করে।

গাছের শক্তি উৎপাদনে সহায়ক। প্রথমদিকে বীজ থেকে চারা তৈরি হওয়ার পর সরাসরি তীব্র সূর্যের আলো থেকে চারা রক্ষা করতে হবে। কারণ তীব্র রোদের কারণে ছোট চারা পুড়ে যেতে পারে। উপযুক্ত তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয় এবং চারা শক্তিশালী হতে থাকে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে বীজের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। এবং অত্যধিক গরম তাপমাত্রা গাছের বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একটি উষ্ণ এবং শীতল পরিবেশের মধ্যে চারা তৈরি করতে হবে।

চারা পরিচর্যা উন্নয়ন ও স্থানান্তর

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি হলে সঠিক পরিচর্যা এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে চারা শক্তিশালী ও সুস্থভাবে বৃদ্ধি পায়। চারাগুলকে সঠিকভাবে আর্দ্র এবং পরিষ্কার পরিবেশে রাখা উচিত। চারা প্রাথমিকভাবে সূর্যের তীব্র আলো থেকে রক্ষা করতে হবে। প্রতিদিন মাটি আর্দ্র রাখতে হবে কিন্তু অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া উচিত নয় কারণ এতে শিকড় পচে যেতে পারে।চারা যখন কিছুটা বড় হতে শুরু করবে তখন পর্যাপ্ত আলো এবং তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাগন গাছের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, গাছের বৃদ্ধির জন্য সুষম সার প্রয়োগ করা উচিত। নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের সঠিক মিশ্রণ গাছের শিকড়, কাণ্ড এবং পাতা বৃদ্ধির জন্য উপকারী। প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর সার প্রয়োগ করা উচিত।
চারা যথেষ্ট বড় হলে এবং শক্তিশালী হলে তখন তা মূল জমিতে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরের পূর্বে, মাটি ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এতে গাছ দ্রুত নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে। চারা গাছকে সতর্কতার সাথে খুঁড়ে তুলে মাটি থেকে সরিয়ে নিতে হবে । যতটা সম্ভব শিকড় অক্ষত রাখতে হবে। পরে গাছটি মূল জমিতে রোপণ করার পর, নিয়মিত পানি দিতে হবে এবং মাটি সুষম রাখতে হবে।সঠিক পরিচর্যা উন্নয়ন এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে ড্রাগন ফলের চারা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং উচ্চমানের ফল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হয়।

সুস্বাদু ড্রাগন ফল থেকে বীজ তৈরির ঘরোয়া উপাই

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা একটি সহজ কাজ। এই ফলটি পুষ্টিগুণ অসাধারণ এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় । ড্রাগন এর বীজ থেকে চারা তৈরি করতে প্রথমে আপনাকে একটি পাকা ড্রাগন ফলের বীজ সংগ্রহ করতে হবে। তারপর বীজগুলোকে ভালভাবে শুকাতে হবে। একটি পাত্রে সুরক্ষিত মাটি নিয়ে বীজগুলো পুঁতুন হবে। পাত্রটিকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো এবং সঠিক তাপমাত্রা থাকবে।

নিয়মিত মাটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত জল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বীজগুলো থেকে চারা উঠতে শুরু করবে।ড্রাগন ফলের গাছ সাধারণত তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। একবার গাছটি বড় হলে আপনি এটি বাড়ির বাইরে বা বাগানে রোপণ করতে পারবেন। এটি শুধু সুস্বাদু ফল দেয় না বরং পরিবেশকেও শোভিত করে।

শেষ কথা

ড্রাগন ফলের বীজ থেকে চারা তৈরি করা একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং সহজ প্রক্রিয়া। তাই আপনারা যারা  সহজে এটা চাষ করেতে চান তারা  সঠিক পরিবেশে আপনি সুন্দর একটি ড্রাগন ফলের গাছ গড়ে তুলতে পারেন। একবার গাছটি বড় হলে আপনি নিজের হাতে তাজা  সুস্বাদু ড্রাগন ফল উপভোগ করতে পারবেন। যত্নের সাথে বীজ রোপণ ও চারা তৈরি করলে এটি আপনাকে একটি ফলপ্রসূ গাছ উপহার দিবে । দীর্ঘ দিন ধরে আপনার বাড়ির বা বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। 

এই ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর। এতে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং মিনারেলস থাকে। আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য উপকারী। ড্রাগন ফল খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান আমাদের ত্বককে সজীব এবং সুস্থ রাখে।পাশাপাশি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। ড্রাগন ফল প্রাকৃতিকভাবে জলীয় ও তাজা, তাই গরমের দিনে এটি একটি আদর্শ ফল। এটি সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয়। তবে বিভিন্ন স্মুদি স্যালাড বা ডেজার্টেও ব্যবহার করা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সাফল্য 24 নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন-প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url